বাড়িতে বসে খুব সহজেই বানিয়ে নিন বন রুটি।
৬০% মানুষের বর্তমান যুগে ডায়াবেটিস রোগ দেখা দেয়। আর এই রোগের জন্য হাটাহাটির পাশা পাশি দুই বেলা রুটি খাওয়ার জন্য বলে থাকেন ডাক্তাররা । প্রতি দিন সকাল ও রাত রুটি খেতে খেতে একঘেয়েমি বা বিরক্তিকর চলে আসে। তাই মাঝে মধ্যে মানিয়ে নিন বন রুটি । এটি খেতে যেমন সুস্বাদু , বানানো খুব সহজ। এছাড়া ছোট বাচ্চাদের থেকে সর্বোচ্চ বয়স পর্যন্ত মানুষ এই বন রুটি খেতে পারে। বন রুটি খেলে শরীরের কোন ক্ষতি হয় না।
চলুন জেনে নেই বন রুটি বানাতে আমাদের কি কি প্রয়োজন।
বন রুটি তৈরি করার জন্য লাগবে আট, চিনি, ইস্ট, দুধ, তেল, কুসুম গরম পানি, লবন, ডিম, ইত্যাদি।
সরিষা বা সয়াবিন তেল যেকেনো একটা ব্যবহার করতে পারেন । এটা আপনাদের মন পছন্দ । বন রুটি বানালে অবশ্যই লবণ ব্যবহার করবেন। লবন না দিলে কেনো মিষ্টি জাতীয় খাবার মনে হতে পারে। তাই সব সময় লবণ অবশ্যই ব্যবহার করবেন। এতে এর টেস্ট ও সুন্দর আসে।
প্রথমে ২ কাপ আটা নিন। পোনে এক কাপ চিনি নিন।দুই চা চামচ ইস্ট , হাফ চা চামচ লবণ নিতে হবে। তারপর সব গুলো উপাদান ভালো ভাবে মিসিয়ে নিন। তারপর একটি কাপে কুসুম গরম দুধ নিতে হবে, ঐ এক কাপ তেল নিতে হবে। তারপর ভালো ভাবে তেল ও দুধ দিয়ে মেখে নিতে হবে।
বানানোর প্রথমে রুটি বেলার ডো এরমত পারফেক্ট করা যাবেনা। ৭ থেকে ৮ মিনিটের মত রেস্ট এ রেখে দিন। অবশ্যই পাত্রের মুখে একটা ঢাকনা বা কাভার দিয়ে ঢেকে দিবেন। ডো ডাবল হাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। বাটিতে একটু তেল দিয়ে, আবার ও ২ ঘন্টার জন্য রেস্টে রেখে দিন। দুই ঘন্টা পর ফুলে ডাবল হয়ে যাবে। ডো বেশি শক্ত করা যাবে না। আবার নরম করা যাবে না। ডো টা মিডিয়াম থাকতে হবে।
তারপর একটু আটা ছিটিয়ে বন রুটি শেপ দিতে হবে। একটি স্টিলের থালাতে তেল ব্রাশ করে , পেপার বিছিয়ে তারপর ওপরে ডো রাখতে হবে। বনের শেইপ আসার জন্য আধা ঘণ্টার জন্য রেস্টে রেখে দিতে হবে । আাধা ঘন্টা পর ফুলে ডাবল হয়ে যাবে।
তারপর ডো শেফের উপরে ডিমের কুসুম এবং দুই টেবিল চামচ দুধ ব্রাশ করে দিতে হবে। তারপর সাদা তিল দিতে হবে। এরপর একটি হাড়ি নিতে হবে। হাড়ি টি চুলার রেখে ৫ থেকে ৬ মিনিট গরম করে নিতে হবে ।
হাড়ির মধ্যে বন রুটির প্লেট গুলো বসিয়ে দিতে হবে। এবার মিড়িয়াম থেকে লো আঁচে চুলার বসিয়ে রাখতে হবে ২০ থেকে ২৫ মিনিট। একটি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এতে করে বানের রুটি টি খুব সুন্দর একটি কালার আসবে। তারপর উপরে থেকে একটু সয়াবিন তেল দিয়ে ব্রাশ করে নিবেন। তখন বানের উপরে বেকারি মতো ভাব চলে আসবে । গরম থাকা অবস্থা ব্রাশ করতে হবে। তৈরি হয়ে যাবে আটা দিয়ে নরম তুলতুলে বন রুটি। আপনারা ঘরে বসে করে নিন বন রুটি । দেখতে যেমন সুন্দর, খেতে তেমনি মজা। একবার খেলে বার বার খেতে মন চাইবে। বাচ্চারা বন রুটি টা পছন্দ করে, বন রুটি ভালো খাই।
সতর্কতা বলি:
বন রুটি তৈরি করার সময় ভালো করে খেয়াল রাখতে হবে, শেপ টা বাকা হলে বন রুটি দেখতে বাকা হবে। বাকা হলে দেখতে ভালো লাগবে না । চুলার আগুনে তাপ মিডিয়াম রাখতে হবে। তা না হলে পুড়ে যাবে। পুড়ে গেলে খেতে তিতা লাগবে। খেতে ভালো লাগবে না। দেখতে খারাপ লাগবে ও কালো দেখাবে বন রুটি। খেতে গেলে পুড়া গ্যাস/ গন্ধ বের হবে।
উপকারীতা
বন রুটি বানানোর জন্য দুধ ব্যবহার করা হয়। দুধ খেলে শরীর ভালো থাকে। দুধ খেলে শক্ত হয়। হাড় মজবুত থাকে ও দাঁতে ক্যালসিয়াম পায়। বাচ্চারা দুধ খেতে পছন্দ করে। দুধ খেলে স্বাস্থ্যবান ও মোটা হওয়া যাই। ব্রেনের বিকাশ ঘটে।
অপকারিতা,
চিনি মানুষকে মোটা করে, চিনি মানুষের ওজন বাড়াই। অতিরিক্ত মিষ্টি বাঁচেনি জাতীয় খাবার খেলে ডায়াবেটিস রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই সবসময়ই চিনির পরিমাণ অল্প খাওয়া উত্তম।
দুধ খেলে অনেকের গ্যাস হয়। যাদের গ্যাসের সমস্যা দুধ খেলে অবশ্যই তারা গ্যাসের ওষুধ খেয়ে নেবেন। তা না হলে সমস্যা করবে, বুকের মধ্যে যন্ত্রণা করবে।
দুধ খেলে প্রেসার বাড়ে। যাদের পেশারে সমস্যা তারা অবশ্যই অতিরিক্ত দুধ খেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রেসারের ওষুধ নিবেন। যাদের প্রেসার কম তারা দুধ খেলে সমস্যা নেই।
বেশি চিনি খেলে ডায়াবেটিকস বাড়ে। চিনি মিষ্টি খাবার। তাই ডায়াবেটিকস বাড়ে। তাই অবশ্যই মিষ্টি কম করে খাবেন। বেশি খাওয়া যাবেনা। খেলে ডায়াবেটিসের সমস্যা হবে। যাদের ডায়াবেটিস আছে তার অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে ডায়াবেটিসের ওষুধ খাবেন।
ডিম ড্খেলে পুষ্টি হয়। ডিম খাওয়া ভালো। ডিম স্বাস্থ্যের জন্য ভালো । ডিমের শক্তি বাড়াই।
